কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪ এ ০৪:১০ AM

পটভূমি ও ইতিহাস

কন্টেন্ট: পাতা

অবিভক্ত বাংলার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। সর্বভারতীয় অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম সভার স্মৃতি বিজড়িত। ১৯৬৯ এর বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে শহীদের হৃদপিণ্ড থেকে লাল রঙের যে ঝর্ণাধারার উৎপত্তি হয়েছিল। তারই চলার পথ প্রশস্ত হয়ে ১৯৭১ সালে। যারা আঙ্গুলি হেলনে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যার বজ্র কন্ঠের হুঙ্কারে থেমে গিয়েছিল পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর হৃদস্পন্দন সেই কালজয়ী মহান পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মধন্য গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তে অবস্থিত বাগেরহাট জেলা। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক ভৌগোলিক সাংস্কৃতিক পটভূমিকায় বাগেরহাট জেলার রয়েছে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। পাল বংশ সেন বংশীয় রাজাদের আমলের জনবসতি ক্রমে ইসলামের ব্রতচারী মহান সুফি সাধক হযরত খান জাহান (রঃ) আবাদকৃত পূণ্য ভূমি বাগেরহাট জেলা বর্তমান সরকারের আনুকূল্যে আজ উন্নয়নের মূল ধারায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ৯৭ বাগেরহাট ০৩ এর রামপাল উপজেলার মংলা নদী তটে সবুজ শ্যামল ছায়া বিস্তীর্ণ রামপালের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা সদরে ১৯৬৯ এ গণঅভ্যুত্থানের অব্যবহিত পূর্বে দক্ষিণ বাংলার অবহেলিত এই জনপদকে জ্ঞানালোকে বিভাষিত করতে কতিপয় বিজ্ঞজনের সহযোগিতায় ১৯৬৮ সালে গড়ে ওঠে রামপাল কলেজ।

রামপালের যে সমস্ত বরেন্য শিক্ষাব্রতী সুধীজন এর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান তাদের মধ্যে সর্ব জনাব আলহাজ্ব আব্দুল গনি,আলহাজ্ব ইজারদার ইমান আলী, ইজারদার আবু বকর, ইজারদার আব্দুল ওহাব, মল্লিক আঃ হাদী, বাবু জনার্দন মন্ডল, বাবু দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, কাজী শাহাদাত হোসেন, শেখ আমিনুদ্দিন, বাবু শীতল চন্দ্র মিস্ত্রি, যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ সহ প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জনাব অ্যাডভোকেট রফিউদ্দিন। এ অঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বপ্নের বাস্তব রূপ রামপাল কলেজ জন্ম লগ্ন থেকেই শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি সহ পাঠ্যক্রমিক কর্মকান্ডে রেখে চলেছে অভাবনীয় সাফল্য।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর সময় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু নতুন করে দেশ গড়ে তোলার প্রাক্কালে এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন তারই আদর্শে অনুপ্রাণিত কিছু শিক্ষানুরাগী বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ। যেহেতু বৃহত্তর রামপালের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রামপাল কলেজটি সূচনা লগ্ন থেকেই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও উচ্চ শিক্ষা প্রসারে কার্যকর অবদান রেখে চলেছে সেহেতু ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এই কলেজটিকে ১৯৭১-১৯৭২ ইং শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিগ্রী খোলার অনুমতি প্রদান করেন এবং ১৯৭৯-১৯৮০ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রী কলেজে রূপান্তরিত হয়। ক্রমে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের আস্থাস্থল রামপাল কলেজ জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে বিভিন্ন বিষয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিভূক্ত করে অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী কর্তৃক পাঠ দান করে চলেছে।

বাগেরহাট-০৩ আসনের উন্নয়নের রূপকার বর্তমান মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক সফল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক কেসিসি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে রামপালে সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিয়েছেন। রামপালের সর্বস্তরের জনগণের একমাত্র সুহৃদ এই নেতা রামপাল কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মধ্যমণি হয়ে বৃহত্তর রামপালের অবহেলিত মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার ব্রত নিয়ে ০৪ একর ৫৬ শতক জায়গায় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। কলেজের সভাপতি হিসেবে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৬৮ সালে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে তিন তলা ভবন, নির্মাণ কাজ চলছে দ্বিতল বঙ্গবন্ধু ভবনের যার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রিয় এ বিদ্যাপীঠের নদী বিধৌত কলেজ মাঠ এখন রামপালের খেলাধুলার একমাত্র স্থান। আর মাননীয় সংসদ সদস্যের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে চলেছেন অধ্যক্ষ মজনুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের উন্নয়নের তরীকে শক্ত হাতে হাল ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনসাধারণের হৃদয়ে সিংহাসনে আসীন প্রাণ প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় জননেতা তালুকদার আব্দুল খালেক দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষা বিস্তার এর চারণভূমি ঐতিহ্যবাহী রামপাল কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরেন। শুধু তাই নয় ভিশন ২০২১ পুরন তথা এই এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তারই প্রচেষ্টায় ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য বিধাতা গত ১৩/১১/২০১৩ ইং তারিখ তৃতীয়বারের মতো ধীমান পূর্বসূরীদের শান্ত সমাহিত চলনে গঠিত এই বিদ্যানিকেতনে পদার্পণ করেছেন। রামপালের স্বপ্ন পুরুষ জননেতা তালুকদার আব্দুল খালেকের ডাকে প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে তার মুখনিঃসৃত বাণী শুনতে তাকে বরণ করতে মুহূর্তে রামপাল জনসমুদ্রে পরিণত হলো। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের পাশাপাশি জনগণ উচ্চকণ্ঠে রামপালের গণমানুষের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান রামপাল কলেজকে সরকারিকরণের জোর দাবি উত্থাপন করলেন। ক্ষণকাল পরে প্রাণপ্রিয় নেত্রী মঞ্চে দাঁড়ালেন। শুভেচ্ছা জানালেন রামপালের জনগণকে। প্রত্যেকটি নির্বাচনে এই এলাকার জনগণ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা রামপালের জনগণকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন। বাগেরহাট ৩ রামপাল মংলার মানুষের সুন্দর আগামী রচনার উদ্দেশ্যে রামপালের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন ও ভিত্তি স্থাপন করলেন। ভিশন ২০২১ পূরণের বিভিন্ন বার্তার সাথে সাথে বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে দাঁড়িয়ে রামপাল কলেজ সরকারীকরণের ঘোষণা দিলেন। করতালি আর স্লোগানের স্লোগানে মুখরিত হলো চারিদিকের আকাশ বাতাস। গণতন্ত্রের মানস কন্যা প্রাণ প্রিয় নেত্রী রামপাল কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণার সাথে সাথে মঞ্চে উপবিষ্ট নেতৃবৃন্দ সহ রামপালের কৃতি সন্তান সংসদ সদস্য জননেতা তালুকদার আব্দুল খালেক আবেগ আপ্লুত হৃদয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসলেন এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করলেন।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন